এবার পূজোয় গ্যাংটক পারি দিচ্ছেন অনেকে।গ্যাংটক তথা সিকিমে শুধুমাত্র খাবার জন্য কিছুটা সময় অবশ্যই রাখুন । ফ্রেশ সবজি আর নানা ধরনের সিকিমিজ লেপচা ভুটিয়া তিব্বতি নেপালি কুইজিন ও তাদের সংমিশ্রণ । উত্তর ভারতীয় এবং বাঙালি খাবার দাবার পসরাও আছে।তবে সিকিমে সিকিমের খাবারের স্বাদ না নেওয়াটা অপরাধের পর্যায়ে পরে। 
যত বার সিকিম যাই এক ঘন্টা পর পর আমার খিদে পায়। এমনিতে খুব খাইনা কিন্তু মোমো দেখলে দুপ্লেট সাটানোর পর ও করুণ সুরে তৃতীয় প্লেটের দাবি করি। ছাঙ্গু থেকে , রাবাংলা থেকে নামচি কোথাও মোমো খাইনি এটা হয়নি। যাক খাই খাই বাতিক সরিয়ে গ্যাংটকের খাদ্য ভ্রমণ করা যাক।
গ্যাংটকের মানুষ সাধারণত স্টিমড, স্যুপ , অল্প তেলের রান্না জাতীয় খাবার পছন্দ করেন । এধরনের খাবারে নিউট্রিশানাল গুন খুব বেশী। নেপালী এবং তিব্বতের খাবারের প্রভাব বেশ। 
প্রধান খাবার তালিকাতে রয়েছে ভাত , সিজিনাল সবজি, ওয়াইল্ড ফ্লাওয়ার , মাশরুম,ডাল, গম, বার্লি, আলু, সোয়াবিন, দুধ, পর্ক , বিফ , নরম বাঁশের কান্ড ,মাছ, মাংস, বিভিন্ন ধরনের শাক আরও কতকি। সিকিমিসরা সিজিনাল সব্জি সংরক্ষণ করে রাখেন। এলকোহলিক ড্রিংক খুব প্রচলিত সিকিমে।

গ্যাংটকের মানুষ সাধারণত স্টিমড, স্যুপ , অল্প তেলের রান্না জাতীয় খাবার পছন্দ করেন । এধরনের খাবারে নিউট্রিশানাল গুন খুব বেশী। নেপালী এবং তিব্বতের খাবারের প্রভাব বেশ। 
প্রধান খাবার তালিকাতে রয়েছে ভাত , সিজিনাল সবজি, ওয়াইল্ড ফ্লাওয়ার , মাশরুম,ডাল, গম, বার্লি, আলু, সোয়াবিন, দুধ, পর্ক , বিফ , নরম বাঁশের কান্ড ,মাছ, মাংস, বিভিন্ন ধরনের শাক আরও কতকি। সিকিমিসরা সিজিনাল সব্জি সংরক্ষণ করে রাখেন। এলকোহলিক ড্রিংক খুব প্রচলিত সিকিমে।

MOMO: সিকিম বলতেই আমাদের মাথায় আসে ধোঁয়া ওঠা মোমোর প্লেট ।নানান ধরনের মোমো সিকিমে পাওয়া যায়। মুখে দিলেই সগ্গ। আর সাথে ব্রহ্ম তালু জ্বালিয়ে দেওয়া ডাল্লের চাটনি আর গরম স্যুপ । গন্ধটা নাকে গেলে সব নার্ভ চাঙ্গা। 
মোমো মূলত নেপাল ও চায়নার ট্রেডিশানাল ঘরানার ।এটি ময়দার তৈরী ভিতরে চিজ , পনির , সব্জি, ক্রাম্বল মাংসের পুর থাকে। ফ্রায়েড মোমো ও বেশ ভাল ।
Places you can try : রোল হাউস, বেকারস ক্যফে , টেস্ট অফ তিবেট , ক্যাফে ইনফিনিটি , দ্যা স্কোয়ার , পরিবার রেস্তোরাঁ , চপস্টিক , অ্যালেন কিচেন ইত্যাদি। এগুলি সব কটাই এম জি মার্গের আশেপাশে।


THUKPA: এটি একটি তিব্বতি নুডলস ও স্যুপের কম্বিনেশন সাথে থাকে টাটকা ক্রাম্পেল্ড সব্জি , মাংস। খুব অল্প তেলে হয় , স্টিমড । ঠান্ডার সময় গরম গরম থুকপা খুব এনার্জি দেয়। খুব ঠান্ডার সময় শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখে। আমাদের সাথে যাদের বাচ্চা থাকে তাদের জন্য এটি আদর্শ হোল মিল হজম করার জন্য সুবিধাজনক । মোমো যেসব দোকানে পাওয়া যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থুকপাও পাওয়া যায়।

CHHURPI: এটি ইয়াকের দুধের মুলত তৈরি একটু টক(খুব সামান্য ) স্বাদের। অনেকে এমনি মুখে দেন; স্ট্রেস রিলিফ আর এনার্জি পাবার জন্য । তাছাড়া আচার স্যুপ বানাতে লাগে । শাকের সাথে কম্বিনেশন করেও বানানো হয়।


GUNDRUK SOUP: এই দুটিই স্যুপই শাক জাতীয় সব্জি দিয়ে তৈরী খুব নিউট্রিশানাল ভ্যালু যুক্ত । গুন্দ্রুক শুকনো সরষে শাক , ফুলকপি, বীট , পিঁয়াজ, টমেটো ইত্যাদি দিয়ে তৈরী স্যুপ জাতীয় পদ। হোম স্টে গুলিতে সিনকি নামক এরকমই এক পদ দেয় সেটি সামান্য হলেও টক যেহেতু ফারমেন্টেড।

KINEMA CURRY: এটিও ফারমেন্টেড সোয়াবিনের একটি রান্না। ট্রেডিশানাল সিকিমের থালিতে ভাতের সাথে পরিবেশন করা হয়।

FAKSAPA: চর্বি যুক্ত পর্ক লম্বা লম্বা করে লাল লঙ্কা রেডিশ এবং লোকাল কিছু স্পাইশ সহকারে বানানো হয়।ঘন ব্রোথ ধরনের পর্কের চর্বিতেই রান্না হয় অতিরিক্ত তেল লাগেনা। গ্যাংটকের রেস্তোরাঁ গুলিতে খুব কমন খাবার ।

SIL ROTI: এটি নেপালী ঘরানার ট্রেডিশানাল খাবার । চাল গুঁড়ি দিয়ে তৈরী ডিপ ফ্রাইড করে তৈরী করা হয়। সাধারণত টমেটো চাটনি আলু টমেটো কারি ইত্যাদির সাথে পরিবেশন করে। ব্রেকফাস্ট এই ডিশ দিয়ে বেশ চালু। জিলিপির মত সরু অল্প প্যঁচানো।

SEFALE: সিঙারা অথবা প্যাটিস জাতীয় খাবার ,একটু বড়। ভিতরে চিকেন ,বিফ অথবা পর্ক ও নানা টেস্টি সব্জি মরিচ ইত্যাদির পুর ঠাশা থাকে। মূলোর ঝাল আচার স্যালাডের সাথে গরম গরম জমে যায়।

CHHURPI NINGRO CURRY: ছুরপির সাথে ওয়াইল্ড ফার্ণ দিয়ে তৈরী করা হয় । সিকিমিজ থালিতে এটা কমন। একটু আনকমন স্বাদের।

ONTON SOUP: হ্যান্ড মেড চ্যাপ্টা নুডলসের স্যুপ এটি। বেশ রিফ্রেশিং আর খুব হালকাও । বাচ্চাদের জন্য খুব ভাল ।সাধারণত পর্ক দিয়ে হলেও চিকেন ও পাওয়া যায়।

TENTHUK: এটা মূলত তিব্বতী হেঁসেলের একটা ভেজ নুডলস স্যুপ । সোয়াসস ব্যবহার করা হয়।
বেশ ভাল টেস্ট ।

BURKHE: এটি অর্কিড ফ্লাওয়ার দিয়ে তৈরী করা একটা সামান্য টক পদ । তবে অক্টোবর নভেম্বর মাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এটি।

FING & GAYARI: ফিঙ ভুটিয়া প্রভাবিত নুডলস স্যুপ ।মূলত চিকেন বিফ পর্ক দিয়ে হয়।
গাআরি চিকেন বিফ পর্ক বাঁশের নরম কাণ্ড দিয়ে তৈরী ভুটিয়া প্রভাবিত পদ। সত্যিই অসাধারণ ।

OWACHIYA: নেপালি রান্না এটিও নেপালি হোম স্টেতে পাওয়া যায়। ভাত ও চিকেন মিশ্রিত এক পদ। অবশ্য পালকের কিছু অংশ ব্যবহার করা হয়।

GHIMA: সসেজ ধরনের খাবার সাধারণত পর্ক বা বিফ এর সাথে চাল বা গমের আটা দিয়ে হয়।

CHANG: লোকাল বিয়ার। ফিঙ্গার মিলেট দিয়ে তৈরী সাধারণত ।তবে বার্লি রাইস ফারমেন্ট করেও তৈরী করে। লম্বা বাঁশের গ্লাসে মিলেট বীজ সহ অথবা এমনি সার্ভ হয় যাকে তোংবা বলে এবং একটা পাইপ দেওয়া হয় নাম পিপসিং।সামান্য গরম জল কখনও যোগ করে দেওয়ার রীতি আছে ।যদিও সাধারণ রেস্তোরাঁ তে এটি পাওয়া যায়না। রুমটেকের কাছে একটি হোটেলি অথেনটিক লেপচা কুইজিনে এটা আছে।সে কথায় পরে আসবো। কেমন টেস্ট অবশ্য বলতে পারব না। অনেক হোম স্টে তে এটি ওয়েলকাম ড্রিঙ্ক ।

PHO TEA (BUTTER TEA): শুকনো চা বহুক্ষণ ফুটিয়ে ইয়াকের বাটার নুন দিয়ে করা অত্যন্ত এনার্জেটিক পানীয়। একটু কড়া কিন্তু বেশ রিহাইড্রেটিং। স্কীন ভাল রাখতে আর ঠান্ডার সময় শরীর গরম রাখতে এর জুরি মেলা ভার । সিল রুটি পরোটার সাথে খায়।

MOHI: গরমে আবার ওয়েলকাম ড্রিংক হিসেবে ব্যবহৃত হয় মোহি। এটা সামান্য টক ঘোল জাতীয়। কখনও এতে শসা আলু পিঁয়াজ ইত্যাদি যোগ করে সার্ভ হয়। এটি খুব রিফ্রেশিং আর শরীর ঠান্ডা করার জন্য আদর্শ ।এটাও হোম স্টে অথবা গ্রামের রেস্তোরা ছাড়া পাওয়া মুশকিল ।

এগুলো ছাড়াও পাকু (মটন কারি) মূলত সিল রুটির সাথে খায়, মেসু (ফারমেন্টেড বাঁশের আচার ) , শিমি আচার (কল বের হওয়া সোয়াবিন ধিয়ে তৈরী) পাওয়া যায়। সিকিমের খাবারে মশলা খুব কম ব্যবহার করা হয়। মরিচ ডাল্লে কালো জিরে ইত্যাদি ব্যবহার করে রান্নার সময়। সারা পৃথিবীতেই সিকিমের এই খাবার ছড়িয়ে গেছে। এখানকার বেকারি শপ গুলিও খুব ভাল । নানা ধরনের কেক পেস্ট্রির ভাণ্ডার। ছায়াডুঙ বায়াসু সহ আরও বিভিন্ন ব্রেড টাইপ খাবার পাওয়া যায়।চিকেনের বিভিন্ন ধরনের ডিস সিকিমে পপুলার । আরও অনেক কিছুই সিকিম কুইজিনে প্রচলিত । ইয়াকের মাংস লাচুং এর দিকে কিছু জায়গাতে পাওয়া যায় শুনেছি ।ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নেই।

এবার কিকি টেস্ট করবেন লিস্ট করে ফেলুন । স্বাদ কোরক সকলের সমান হয় না। বিভিন্ন ধরনের খাবার দাবার ভিন্ন ভিন্ন রূপে নানা নামে প্রচলিত । সকলের সব ভাল নাও লাগতে পারে। তাই আপ রুচি খানা সবসময়ই আমার মনে হয়। আসলে বেড়ানোর একটা অঙ্গ খাবার দাবার । চোখের আনন্দ মনের জিভের আনন্দ ।
আমিতো বাড়ি থেকে বার হলেই খাই খাই করি। শরীর ঠিক রেখে মুখ চলে । সিকিমের খাবার এত তাড়াতাড়ি হজম হয় আবার খিদে পায়। বড্ড মুশকিল । আমার এখন অবস্থা খুব শোচনীয়। এই সহ লোভনীয় খাবার দাবার কথা মনে ঝড় তুলছে।