The Plan:

6 people 9 nights to explore 5 places. Jaigaon/Phusholing, Thimphu, Punakha, Paro and Ha that simple was our plan. But this simple plan gave us memory of a lifetime.

Day wise itinerary:

Day 1: শিয়ালদহ থেকে কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে যাত্রা
Day 2: হাসিমারা পৌছে পারমিট বানানো থিম্পু আর পারোর (কারণ এখান থেকে শুধু এই দুটি জায়গার ই পারমিট দেওয়া হয়) আর গাড়ির পারমিট বানানো (কারণ আমাদের গাড়ি ইন্ডিয়ান নম্বর এর গাড়ি)। রাতে জয়গাঁওতে থাকা।
Day 3: থিম্পু পৌঁছানো আর থিম্পুর বাজার আর ক্লক টাওয়ার স্কোয়ার হেঁটে ঘুরে দেখা। রাতে থিম্পুতেই থাকা
Day 4: থিম্পু সাইট সিইং আর পুনাখা যাবার পারমিট বানানো নিজেদের জন্য আর গাড়ির জন্যও (কারণ আমরা একদিন থাকবো পুনাখাতে)। রাতে থিম্পুতেই থাকা
Day 5: পুনাখা যাত্রা, পুনাখা ঘুরে দেখা। রাতে পুনাখাতেই থাকা
Day 6: পুনাখা থেকে পারো যাত্রা। পথে যতগুলো সম্ভব সাইট সিইং দেখে নেওয়া। রাতে পারোতেই থাকা।
Day 7: টাইগার নেস্ট মনাস্টেরি বা পারো তাক্ষাং এর ট্রেকিং। রাতে পারোতেই থাকা।
Day 8: চেলে লা পাস আর হা ভ্যালি ঘুরে দেখা। রাতে পারোতেই থাকা।
Day 9: হসিমারা ফিরে কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে করে বাড়ি ফেরা

Places we have stayed:

Hotel Devi at Jaigain, Hotel Shantideva at Thimphu, Damchen Resort at Punakha, Hotel Sonam at Paro.

Over all cost of the trip: Per head Rs.15,000 from Sealdah to Sealdah
In one word Bhutan is awesome and every nature lover and traveler must plan for a adventurous journey to this place of Dragons.

Part 1 of our trip: হাসিমারা/ জয়গাঁও/ ফুয়েন্টসলিং আর পারমিটের এর গল্প

যখন কাঞ্চন কন্যা ট্রেনে করে যাত্রা শুরু করলাম, তখন দেখলাম আমাদের কামরায় প্রায় ৯০% মানুষই ভুটান যাচ্ছেন। সে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। এক ট্রেনে এতজন লোক একসাথে এক জায়গায় যাচ্ছেন, এ সচরাচর দেখা যায় যায় না। অনেক লোকই যাচ্ছে টুর কোম্পানির সাথে। সকলেরই প্রায় বক্তব্য এক। কলকাতার অসহ্য গরম ছেড়ে সবাই পালাচ্ছে একটু ঠান্ডার খোঁজে। কিছু বাঙালি একসাথে বসে থাকলে যা হয়, এক কাপ চায়ে হয়ে গেলো আলাপ। একজনের সাথে পরিচয় হল, মাঝবয়সী বাঙালি, যিনি ৪২ জন টুরিস্ট কে ঘোরাতে নিয়ে যাচ্ছেন। শুনে তো আমি অবাক। নিজের পরিবারের ৬ জনকে ঘোরাতে নিয়ে গিয়েই মাঝে মাঝে হিমশিম খেতে হয়, আর সেখানে ৪২ জন!!! জিজ্ঞেস করে ফেললাম – “রাতে ঘুম হবে তো”। তো দেখলাম উনি বেশ কুল, বললেন “অভ্যেস আছে”।
যাই হোক আমরা যাত্রা করেছি ১২ ই মে তে, মানে তখন জোরকদমে সারা ভারতের নানা অংশে লোকসভার ভোট হচ্ছে। আর আমাদের কুপে ৮ জনের ৮ জনই বাঙালি। ব্যাস শুরু হয়ে গেল পলিটিক্যাল পর্যালোচনা, কাটা ছেড়া। তারপর সেই আলোচনাতে এলো বাঙালিয়ানা, ক্রিকেট, ফুটবল আরো কত কি। সেই আলোচনা চলল মাঝরাত অবধি। মাঝে একবার বাড়ি থেকে বানিয়ে আনা পরোটা আর আলুর দম খেয়ে নিলাম। বেশ লাগছিল। সত্যি বেড়াতে যাবার পথে এই ট্রেন জার্নি টা যেনো না থাকলে চলে না। শুতে যাবার আগে দেখলাম যে ট্রেন আধঘন্টা মত লেট আছে। এও জানলাম যে যাদের সাথে এত গল্প করছি, ওনারা সকলে আমাদের সাথেই ফিরবেন। নম্বর নিয়ে রাখলাম। ফেরার সময় আবার গল্প করবো বলে।

On the way to Hasimara

সকালে উঠে দেখি রাতে ট্রেন লেট মেক আপ করে নিয়েছে। ইতিমধ্যে এটাও জেনেছি যে ট্রেন শিলিগুড়ি পেরোনোর পর চারপাশের দৃশ্য অসাধারণ সুন্দর হয়ে যায়। কারন ট্রেন চলে চা বাগান আর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে। আমি তো বলবো ভুটান যাবার উপরি পাওনা এটা। সেই দৃশ্য দেখবো বলে, আর মোবাইলের স্ক্রীন এ ধরবো বলে চললাম কামরার দরজায়। আর সত্যিই সে দৃশ্য সুন্দর। কখনও ট্রেন চলেছে পাহাড়ের গায়ে ঢলে থাকা চা বাগানের মধ্যে দিয়ে আবার কখনও জঙ্গলের একেবারে পাশ দিয়ে। কখনও ট্রেন খুব সুন্দর একটা বাক নিল এমনভাবে যে আমি দরজা থেকে ট্রেনের মাথা আর লেজ দুটোই দেখা যাচ্ছে। সত্যিই অসাধারণ লাগছিলো। সে বর্ণনা করা অসম্ভব। প্রতি মুহূর্তে যেনো একটা অ্যাডভেঞ্চারের হাতছানি। মনে পড়ে গেলো সত্যজিৎ রায়ের লেখা রয়্যাল বেঙ্গল রহস্যের কথা। যতটা পারলাম ক্যামেরার ফ্রেমে আনলাম, বাকিটা থাকলো মনে স্মৃতি হয়ে। আরো একটা ব্যাপার ছিল। আকাশ বেশ মেঘলা ছিল। তাই এই সব কিছু যেনো আরো ভালো লাগছিলো।

Jungle view from Train near Hasimara

বেলা ১১ টা নাগাদ নামলাম হাসিমারা তে নামলাম। আমাদের ড্রাইভার বিকাশ প্রধান (নম্বর – 9733600590) অপেক্ষাই করছিল। ছিপ ছাপ গরন, শ্যামবর্ণ, মাঝারি হাইট, দাড়ি গোঁফ কামানো আর বেশ হাসি খুশি। গাড়িতে সব জিনিসপত্র বেঁধে রয়না হবার কিছুক্ষনের মধ্যেই আবার পড়লাম চা বাগানের পাশে। এর মধ্যে ঝেঁপে বৃষ্টি নেমে এলো। বেশ কিছুক্ষন হবার পর থেমে গেলো বৃষ্টি। দেখলাম বৃষ্টি ভেজা চা বাগানের সৌন্দর্য্য যেনো অকল্পনীয়। এদিকে রাস্তায় সামনে একটি লরি খারাপ হবার কারনে আমাদের একটু দেরি হল। আমরা হোটেল দেবী তে পৌঁছলাম বেলা ১২.১৫ নাগাদ। ঠিক করলাম যে তাড়াতাড়ি লাঞ্চ করে বেলা ১.৩০ এর মধ্যেই পৌঁছাবো ফুয়েন্টসলিং ইমিগ্রেশন অফিসে। কারন যেহেতু দিনটা সোমবার ছিল জানতাম যে প্রচুর ভিড় হবে।

একরকম তাড়াহুড়ো করেই হোটেল দেবী থেকে ভাত আর চিকেন কারি খেলাম। খাবার খুবই সুন্দর। দাম পড়লো ১২০ টাকা মত। ভেজ থালি হলে ওই ৭০ টাকা মত। তারপর চললাম ফুয়েন্টসলিং ইমিগ্রেশন অফিসে পারমিট বানাতে। জয়গাঁও থেকে কিছুটা গিয়েই পরলাম ভুটানের ফুয়েন্টসলিং এ। প্রথমেই যা পার্থক্য চোখে পড়লো টা হল, এখানে পরিছন্নতা, আর সকলের নিয়ম মেনে চলা। যাই হোক ভুটান সম্মন্ধে আরো পরে লিখব, আপাতত আসি ইমিগ্রেশন অফিসে। ১০ মিনিট গাড়িতে করে আসার পরই আসে ফুয়েন্টসলিং ইমিগ্রেশন অফিস।

#পারমিটের_জন্য_যা_যা_লাগে
১. ভোটার কার্ডের জেরক্স (অরিজিনাল ও সাথে রাখুন)
২. ছবি ১ কপি করে
৩. হোটেল বুকিং এর স্লিপ ( এটা অবশ্যই লাগবে)
এবার আসি পারমিট বানানোর অভিজ্ঞতার কথায়। এইখানেই ঘটলো যেটুকু সামান্য #খারাপ#অভিজ্ঞতা হয়েছে ভুটানে, সেটা। ২.০০ নাগাদ নাগাদ আমরা ৬ জনের ফর্ম ভর্তি করে জমা দিলাম। সেই ফর্ম নিয়ে একজন চলে গেল অ্যাপ্রুভ করাতে। সোমবার ছিল বলে ভিড়ও খুব বেশি ছিল। প্রায় দেড় ঘণ্টা একটানা দাড়িয়ে রইলাম রোদের মধ্যে যে কখন ফর্ম অ্যাপ্রুভ হয়ে আসবে। প্রায় ৩.৪৫ নাগাদ ফর্ম অ্যাপ্রুভ হয়ে এলো। মজার ব্যাপার হলো এখানেই সব কিছু শেষ না। এরপর ছবি তোলা ও ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানিং এর জন্য আবার লাইন দিতে হল। সেখানেও প্রচুর ভিড়। আর যারা ভিতরে বসে কাজ করছেন তাদের দেখে মনে হলো না যে খুব তৎপর ভাবে কাজ করছেন। অবশেষে এইসব যখন মিটলো তখন বাজে ৪.৩০। তারপরেও কাজ হল এই পারমিট প্রিন্ট করানো। সেখানেও লম্বা লাইন। সব কিছু যখন মিটলো তখন বাজে ৫ টা। এদিকে এই কাজ মিটতে এত দেরি হওয়ায় আমাদের গাড়ির পারমিট আর এক দিনে হল না। তার জন্য পরের দিন সকালের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এই ব্যাপারটা একটু #খারাপ#লাগলো। কারন একটা টুরিস্ট পারমিটের জন্য এতটা সময় সত্যিই একটু বেশি লাগে। আপাতত আর কোনো কাজ ছিল না, তাই আমরা ইমিগ্রেশন অফিসের চারপাশটা ঘুরে দেখলাম। কিছু ছবি তুললাম কিছু কেনকাটা করে বাড়ি ফিরে এলাম।
এদিকে সকাল থেকে ফ্রেশ হইনি। তাই ফ্রেশ হয়ে নিয়ে জয়গাঁও বাজারটা ঘুরতে বেরোলাম। বেশ সাধারণ বাজার। সেটা ঘুরে নিয়ে রাতে বাড়ি ফিরে রুটি তরকারি খেয়ে ঘুমোতে গেলাম। কারন পরদিনই থিম্পু যাত্রা।

Busy morning at Jaigaon

TRAVEL TIPS:

#হোটেল_রিভিউ – জয়গাঁও তে #হোটেল_দেবী তে ছিলাম। যেহেতু এখানে শুধু রাত কাটানোটাই উদ্দেশ্য, তাই এখানে বাজেট হোটেল নিয়েছিলাম। সেই হিসাবে হোটেল বেশ ভালো। পরিষ্কারই বলা চলে। তবে লাক্সারি খুঁজলে এই হোটেলে না আসাই ভালো। এখানে লোকদের ব্যবহারও খুব ভালো। আর কিচেনের রান্নাও খুব ভালো, আর সস্তাও। এছাড়াও এখানে #হোটেল#কস্তুরী ও খুব ভালো হোটেল।#আমার_অভিজ্ঞতা_থেকে_টিপস
১. পারলে পারমিট বানানোর জন্য সোমবার এভয়েড করা উচিত, কারন খুব বেশি ভিড় হয় যেহেতু আগের দুদিন (শনি আর রবি বার) ইমিগ্রেশন অফিস বন্ধ থাকে।
২. অনেকই ভাবেন যে জয়গাঁও পৌছে সেই দিনই পারমিট করে থিম্পু চলে যাবেন। আমার মনে হয়, সেটা না করাই ভালো। কারন এটা খুব রিস্কি হয়ে যায়। আর জয়গাঁও তে থাকা খাওয়া অত্যন্ত সস্তা।
৩. আমরা বাঙালিরা বেড়াতে গিয়ে কেনাকাটা করতে খুব ভালবাসি। তো যতটা পারবেন এখানেই কিনে নিন। যত ভুটানের ভিতরে যাবেন তত দাম বেশি। কেনাকাটার জিনিস বলতে এখানে সুতোর কাজ করা ব্যাগ, ফ্রিজ ম্যাগনেট, বুদ্ধর মূর্তি, যপ যন্ত্র সুভেনিয়র হিসাবে (যারা ফেলুদা পড়েছেন তারা নিশ্চই জানেন এটা কি) কিনতে পারেন।

Part 2 of our trip: থিম্পু যাবার গল্প (Click here for Part 2)