Part 2 of our trip: থিম্পু যাবার গল্প | Click here for 1st Part

দিন ১৪ ই মে। আগেরদিন সারারাত ধরে বৃষ্টি হয়েছে হাসিমারা, জয়গাঁও তে। তারপরও আকাশ বেশ মেঘলা ছিল, তাই একটা ভ্যাপসা গরম ছিল তখনও। আমি সকাল সকাল উঠেই বেরিয়ে পড়লাম চারপাশটা ঘুরে দেখতে। হেঁটে হেঁটে পৌছে গেলাম ভুটান গেট অবধি। সামনেই ভুটানের হাতছানি। আর কিছু ঘণ্টার মধ্যেই হয়ত রওনা হয়ে যাবো। জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমন। বেশ উত্তেজিত লাগছিল। এই উত্তেজনা অবশ্য ছিল অনেক আগে থেকেই ছিল। তাই আসার আগে বেশ কিছু পড়াশোনা করেছি ভুটান নিয়ে। সব চেয়ে অবাক লাগলো এটা দেখে ভুটান এমন দেশ যেখানে দেশের সাফল্য মাপা হয়, দেশের জনগণ কতটা খুশি সেটা দেখে (Gross National Happiness Index)। সেই জন্যই বিশ্বের সব চেয়ে খুশি দেশ হল ভুটান। কর্যতই বলা যায় happiness is a place, and it’s Bhutan। বিশ্বের একমাত্র carbon negative দেশ হল ভুটান। আর শেষে বলতেই হয় বিশ্বে এখন যে অল্পকটা রাজতন্ত্র পরে আছে তাদের মধ্যে অন্যতম হল ভুটান।

Journey to Thimphu

এদিকে আগেরদিন গাড়ির পারমিট হয়নি। তাই ওটার অপেক্ষা করছিলাম। সকাল ১০ টা নাগাদ আমাদের ড্রাইভার বিকাশ জানালো যে গাড়ির পারমিট হয়ে গেছে। আমরা সকলে ব্রেড অমলেট (বোধয় ৩০ টাকা মত পড়েছিল) খেয়ে ১০.১৫ এর মধ্যে রেডি হয়ে গেলাম। মনের মধ্যে জার্নি শুরু হবার উত্তেজনা। ১০.২০ নাগাদ চেক আউট করলাম হোটেল দেবী থেকে। ১০.৩০ এর মধ্যে আমাদের ব্যাগ গাড়িতে বেধে রওনা হলাম। মিনিট খানেকের মধ্যে ঢুকে পড়লাম ভুটানে।

Welcome to Thimphu

আর এবার ইমিগ্রেশন অফিস ছাড়িয়ে চললাম ভুটানের রাজধানী থিম্পুর উদ্দেশ্যে। ভুটানে প্রবেশ করেই যে পার্থক্য টা চোখে পরলো, তা হল পরিষ্কার রাস্তা, সকলের নিয়ম মেনে চলা, আর রাস্তার চারপাশে প্রচুর গাছের সমারহ। আরো একটা জিনিস চোখে পরলো টা হলো এখানে অনেক ছেলে মেয়ে রা নিজেদের জাতীয় পোশাক পরে ঘুরে বেড়ায়। যাই হোক কিছুদূর যাবার পরই এল ইমিগ্রেশন চেক পোষ্ট, এখানে আমাদের পারমিট দেখাতে হল, আর তারপর আমরা পাহাড় ধরে ওপরে উঠতে শুরু করলাম। আর তারফলে আস্তে আস্তে চারপাশের আবহাওয়া বেশ আরামদায়ক ঠান্ডা হয়ে গেল। এদিকে আকাশ তো মেঘলা ছিলই, ফলে আবহাওয়া আরো সুন্দর লাগছিল। প্রথমে আমরা পেলাম একটা জায়গা যার নাম গেদু। এখানে চোখে পরলো এম বি এ ইউনিভার্সিটি। ভারি সুন্দর দেখতে। এর মধ্যেই পথে কোথাও চোখে পরলো একটা মাইলস্টোন, যাতে লেখা থিম্পু – ১৬৮। বেশ লাগলো। সেই ছোটবেলার অভ্যেস কোথাও বেড়াতে গেলে মাইলস্টোন ফলো করা। যাই হোক যত এগোতে লাগলাম তত যেনো চারপাশের দৃশ্য আরো সুন্দর হতে লাগল। ঘন সবুজ ঘেরা পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে এক ফালি সুন্দর করে বানানো রাস্তা, আর তার মধ্যে দিয়েই চলেছি। আস্তে আস্তে যত ওপরে উঠলাম তত মেঘের কাছে চলে এলাম। এইভাবে একটা সময় পুরো মেঘের মধ্যেই ঢুকে গেলাম। তারপর কিছুটা নিচে নেমে দুপুর অবধি আমরা পৌঁছলাম চুখা তে। সেখানে ড্যামভিউ_রেস্তোরাঁ  থেকে দুপুরের খাবার খেলাম। আমরা খেলাম মোমো, নুডলস, ফ্রাইড রাইস। এইখানে খাবার সত্যিই খুব ভালো, চাইলে সকলেই খেতে পারেন। দাম ঠিকঠাকই বলা চলে। অনেক ভারতীয় খাবারও পাবেন। রেস্তোরাঁর পাশ থেকেই দেখা যায় চুখা ড্যাম। আমরা খাওয়া শেষ করে আবার রওনা হলাম থিম্পুর জন্য। মাঝে একবার একটা নাম না জানা ঝর্নার কাছে দাড়িয়ে কিছু ছবি তুললাম।

Unknown falls on our route to Thimphu

এদিকে আকাশে ঘনিয়ে মেঘ করে এসেছে। আমরা আরো বেশ কিছুদূর এগোনোর পর শুরু হল বৃষ্টি, বা বলেই যায় বেশ জোরে বৃষ্টি। বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় দিয়ে যাওয়া যেমন রোমাঞ্চকর তেমনি একটু রিস্কি ও বটে। অবশ্য এ অভিজ্ঞতা আমার আগে কুলু থেকে মানালি যাবার পথেও হয়েছিলো। সেই বৃষ্টি যখন থামলো তখন প্রায় বিকাল আর আমরাও থিম্পুর কাছাকাছি। এবার লক্ষ্য করলাম এখানে হিমালয়ের পাহাড়ের ধরন পুরো আলাদা। আমি সিকিমে বা সিমলাতে যা দেখেছি, তার থেকে অনেক আলাদা। এরপর আমরা পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে নামতে শুরু করলাম। বেশ কিছুক্ষন যাবার পর একটা জায়গা এলো যেখানে রাস্তা দুদিকে ভাগ হয়ে গেছে, একটা চলেছে পারো, হা ভালির দিকে আর অন্যটা থিম্পুর দিকে। থিম্পুর রাস্তা ধরে বেশ কিছুক্ষন চলার পর একটা গেট এলো যাতে লেখা আছে Welcome to Thimphu। আরো বেশ কিছুক্ষন চলার পর এলো আমাদের হোটেল শান্তিদেভা। তখন প্রায় বিকাল ৫ টা। হোটেলে পৌঁছে ব্যাগ ঘরে রেখে এক কাপ গরম কফি খেয়েই বেরিয়ে পড়লাম ঘুরতে কারন আমাদের হোটেল থিম্পু শহরের প্রাণকেন্দ্র ক্লক টাওয়ার স্কোয়ারের ঠিক উল্টো দিকেই।

Clock tower square area, Thimphu

থিম্পু ১৯৬১ সাল থেকে ভুটানের রাজধানী। তার আগে কোথায় ছিল ভুটানের রাজধানী? সেটা ক্রমশ প্রকাশ্য। বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম রাজধানী থিম্পুর জনসংখ্যা প্রায় ৮০০০০। সেই শহরের রাস্তায় হাটতে হাটতে যেটা খুব ভালো লাগলো সেটা হল, এখানে আধুনিকতার ছাপ, আর তার পাশাপাশি পাহাড়ের কোলে হবার জন্য শহরের নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য। আর অবশ্যই পরিষ্কার পরিছন্নতা, আর সকলের নিয়ম মেনে চলা। আর ক্লক টাওয়ার স্কোয়ার? তার কথা আমি বলবো না, কিছু ছবি দিচ্ছি আপনারাই দেখে নিন। এখানে রাস্তায় কেনাকাটা করার অনেক দোকান আছে, তবে দাম আকাশ ছোয়া। ফুয়েন্টসলিং এর থেকে প্রায় ২ গুন বেশি। যাই হোক গোটা মার্কেট ঘুরে দেখলাম, ফেরার পথে মোমো খেলাম। তারপর হোটেলে ফিরলাম বিশ্রাম নিতে। কারন পরদিনই থিম্পু ঘুরে দেখা।

Market area at Thimphu

Part 3 of our trip : থিম্পু ঘোরার গল্প (coming soon)