Rhythm of Romance

এই সভ্য সমাজে দম বন্ধ হয়ে আসে শুভ’র।হাই প্রোফাইল সোসাইটি,আকাশছোঁয়া ফ্ল্যাটের শূণ্যতা,ব্যস্ত শহরের কোলাহল সব কিছু থেকে মুক্তি চায় সে।একটু জীবন খুঁজে পেতে বারবার ফিরে আসে সবুজের ভীড়ে।যুগ যুগ ধরে যেই অরন্য জীবন পেরিয়ে একটা উলঙ্গ মানুষ আজ সভ্যতার মোড়োকে জর্জরিত হয়েছে,সেই বন্যজীবনেই প্রকৃত সভ্যতা ফিরে চলে গেছে,মনে করে শুভ।সেই জঙ্গলেই সভ্যতার সূর্যোদয় হয় রোজ। জঙ্গলের যতই গভীরে যাওয়া যায় ততই মুক্তির গন্ধ পায় সে।তবুও এই ঘন অরন্য মানুষের মনের যে নিরবিচ্ছিন্ন অন্ধকার,যে অমানবিকতার অমর জঞ্জাল তার তুলনায় লঘু। এই অরন্য সংসারে পাহাড়,নদী,বৃদ্ধ একটা সাঁকো,পাথরের বুকেই নাম না জানা ফুল,সেই আকাশছোঁয়া ফ্ল্যাটের চেয়েও উঁচু উঁচু কথাগাছ,সবুজের কোলে টুকরো টুকরো বসতি,মহুয়ার গন্ধ অবিরত জীবনের গান গায়। জঙ্গলের মানুষেরা শুধুই মানুষ।এখানে অন্যান্য পশুও আছে তাই হয়তো।এদের বুকে বুকে পরিশ্রমী শিকড় ছড়িয়ে আছে ঘন অরন্যের মতই।কখনো মহুয়ার মত নেশা ঝড়ে পরে শরীর থেকে,কখনো পাথরের মত শক্ত হাতে রক্ত জল করে।মেয়ে মরদে ঘরে ঘরে হাঁড়িয়া তৈরি করে হাঁটে বিচতে যায় জঙ্গল পেরিয়ে।তাদের সন্তানরা পাহাড়ের কোলে অন্য পৃথিবীকে চেনে।শিক্ষার যতটুকু আলো ফুটে ওঠে গায়ে মেখে নেয়।

শুভ ভাবে এত শিক্ষিত হয়ে তার কি লাভ হল? ঝর্ণার মত জীবন চেয়েছিল সে,পাহাড় হতে হল।রুশাকে ভুলতে চেয়েছে কত।

শুভ ভাবে এত শিক্ষিত হয়ে তার কি লাভ হল? ঝর্ণার মত জীবন চেয়েছিল সে,পাহাড় হতে হল।রুশাকে ভুলতে চেয়েছে কত।রাতের পর রাত সেই ব্যলকনির ধারে টুকরো টুকরো বরফও আগুনের মত বুক বেয়ে নেমে গেছে মনের অন্ধকারে।কখনো হাত থেকে নেশাগ্রস্হ গ্লাসটা বেসামাল গ্রাউন্ড ফ্লোর ছুঁয়ে চুরমার হয়ে গেছে তীব্র শব্দে।শুভ নিজেও সেভাবে ঢলে যেতে চেয়েছে কোনো খাদে।ভিতরে শব্দহীন যতটা চূর্ণ বিচূর্ণ তত টুকরো হয়ে মিশে যেতে চেয়েছে ধূলোয়।পারেনি।রুশাকেও ভোলা হয়নি।রুশার বুকে স্পর্ধা খুঁজে পেয়েছিল,মহুয়ার গন্ধ পায়নি।কিন্তু এই জঙ্গলি মহুয়ার নেশা সমস্ত টুকরো ব্যথা গুলো জুড়ে সূর্যাস্তের মত এক মায়াবী অনুভূতি দেয় শুভকে। জঙ্গলের শৃঙ্খলা বুকে করে ফের বদ্ধ,বাধ্য যন্ত্রজীবনে,অসুস্হ রেষারেষিতে ফেরে সে।সে জানে তাকে ফিরতেই হত।জঙ্গলের মানুষ তার আর এই জীবনে হওয়া হবে না।কিন্তু যতবারই যায় টুকরো টুকরো মনগুলো এক একটা করে রেখে আসে ইউক্যালিপটাসের পায়ে।শিকড় হওয়ার আশায়।