‘পদ্মানদীর মাঝিতে’ জেলে ও মাঝিদের এই গোষ্ঠী জীবনের একান্ত বাস্তবনিষ্ঠ ছবি মেলে।এই উপন্যাসে হোসেন মিঞার চরিত্রটা লেখক খুব অদ্ভুতভাবে উপস্থাপন করেছেন। পাঠকের কখনও মনে হতে পারে লোকটা খুব খারাপ আবার সে যখন গ্রামের গরীব জেলেদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে তখন তাকে সাক্ষাৎ দেবদূতও মনে হতে পারে। বড়ো অমায়িক ব্যবহার হোসেনের। লালচে রঙের দাড়ির ফাঁকে সব সময়ই সে মিষ্টি করে হাসে। ধনী-দরিদ্র ভদ্র –অভদ্রদের পার্থক্য তার কাছে নেই। সকলের সঙ্গেই সে গলায় মধু ঢেলে মিষ্টি সুরে কথা বলে। হোসেন মিয়াঁ হাসি মুখে জেলে পাড়ার প্রায় প্রত্যেকটা বাড়ীর ভেতরে গিয়ে জাঁকিয়া বসে তার গোপন, গভীর ও দুর্জ্ঞেয় মতলব হাসিলের অয়োজন আরম্ভ করলেও এমন কেউ নেই যে তাকে কিছু বলতে পারে। কারণ তাকে কিছু বলেও লাভ হবে না। যা সে ঘটায় সমস্তই স্বাভাবিক ও অবশ্যম্ভাবী। যে আমিনুদ্দিন কোনো দিন ময়নাদ্বীপ যেতে চায়নি, ঝড়ে ঘর ভেঙে তার স্ত্রী মারা যাবার পর সেই হোসেন মিয়াঁর নৌকায় গিয়ে বসে।

যখন মৌসুনী দ্বীপে গিয়ে যেন আমার মনে হচ্ছিল, আমি যেন হোসেন মিয়াঁর ময়নাদ্বীপ ওরফে মৌসুনী দ্বীপে পৌঁছেগেছি। আমি যেন ‘পদ্মানদীর মাঝির’ এক জেলে পাড়াতে চলে এসেছি। আমাদের কেয়ার টেকার আজমলদার মধ্যে আমি হোসেন মিয়াঁ কে দেখতে পাচ্ছিলাম। যেন তাঁর একটাই স্বপ্ন মৌসুনী দ্বীপের উন্নতি। এটা তাঁর স্বপ্নের দ্বীপ। এখানে যারা আছেন, তারা প্রতিদিন প্রকৃতির সাথে লড়াই করেন।বেশির ভাগ দিনই লড়াই করে জিতে যান কিন্তু যেদিন ‘আইলার’ মতো দ্বৈত্য এসে পরে তখন অসহায় ভাবে আত্মসমর্পণ করেন।

Story: Mithun Mondal
Photography: Gopal Paul