কলকাতা থেকে গাড়িতে বা বাসে-ট্রেনে বাঁকুড়া. বাঁকুড়া থেকে খাতড়াগামী যেকোনো বাসে নামতে হবে হাতিরামপুর. হাতিরামপুর থেকে যেতে হবে মানবাজার. মানবাজার বাস স্ট্যান্ড থেকে ই-রিক্সা বা গাড়িতে করে দোলাডাঙ্গা গ্রাম. কংসাবতী আর কুমারী নদীর মিলনস্থলে বিরাট জলাধার (লেক). শান্ত, সিন্গ্ধ, জঙ্গল আর পাহাড়ে ঘেরা বিশাল লেকের পাশেই প্রতন্ত আদিবাসী গ্রাম এই দোলাডাঙ্গা.

Izifiso backpacker’s camp এ পৌঁছে ব্যাগপত্তর রেখে তড়িঘড়ি লেগে পড়লাম টেন্ট নির্মাণের কাজে. হাতাহাতি দ্রুত কাজটা সেরে তৈরি হয়ে নিলাম সবাই. ওয়েলকাম ড্রিঙ্কস খেয়ে একটু ক্যাম্পসাইট ভিসিট করে লেকের ধারে হ্যামকে দুলুনি. ক্যাম্প থেকে বাইরের দিকে তাকালেই মন ভরে যাওয়ার মতো প্রাকৃতিক সৌন্দৰ্য. আকাশের রঙে মিলেমিশে লেকের জলের রঙ. কখনো নীল, কখনো লাল, কখনো ভয়ঙ্কর কালো কুচকুচে. গভীর রহস্য আর সম্মোহনী সৌন্দর্যে মাখামাখি চারিদিক. পাখির কলতান আর হাওয়ার শব্দ. নিঃশ্চুপ — মৌনমুখর

ক্যাম্পে বিভিন্ন কাজে ও মালপত্তর আনানেওয়ার জন্য রাখা আছে একটা Roll’s-Royal’s

ক্যাম্পের চারিদিকে শুধু জঙ্গল আর লেক. লেকের মধ্যে আবার অনেক দ্বীপ. দূরে দিগন্তে হাতির পিঠের মতো উঁচু-নিচু পাহাড়. খোলা আকাশ আর আকাশের নিচে বিস্তীর্ণ মালভূমি. বেলা যে পড়ে এলো এবার জল-কে চলো. সবাই মিলে নেমে পড়লাম স্রান করতে. শান্ত-নির্মল জলে অনেক্ষন কেতবাজি ও সাঁতার কাটতে কাটতে হটাৎ দেখি….. আকাশ কালো করে মেঘ করেছে. মনে হচ্ছিলো এইবার প্রলয় নামবে. প্রকৃতির এই মোহময়ী ভয়ানক গুরুগম্ভীর রূপ পাগল করে দেওয়ার মতো.

“মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়… আড়ালে তার সূর্য হাসে. “
কিছুক্ষন পরেই আবার আকাশে অন্য ছটা. মনে মনে ভগবানকে ধন্যবাদ দিলাম, যাইহোক সূর্যাস্ত টা দেখা যাবে তাহলে .. !

দে দে পাল তুলে দে মাঝি হেলা করিস না ছেড়ে দে নৌকা আমি যাবো মদিনা….
ক্যাম্পে ফিরে কব্জি ডুবিয়ে লাঞ্চ সেরে বেরিয়ে পড়লাম লেকে ঘুরতে. নৌকাতে চেপে মাঝ লেকে গিয়ে সূর্য্যাস্ত দেখতে. সে এক অপূর্ব শোভা. দূরে দিগন্তে পাহাড়ের কোলে সূর্য ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে আর গোধূলির লালচে সোনালী আভা শরতের পেঁজা তুলো মেঘ রাঙয়ে দিচ্ছে. ঠিকযেন সেই ছোট্টবেলার আঁকার খাতাটা.পাহাড়, গ্রাম, পাখি, সূর্য, জলাশয়, মেঘ, নৌকা, মাঝি, উল্টো দিকের আকাশে হালকা চাঁদ

দিল তো বাচ্ছা হ্যা জি…
গোধূলি বেলায় লেকের ধারে বসে একটা একটা পাথর ছুঁড়ে মারা আর আকাশকুসুম চিন্তাভাবনা. ফেলে আসা সময়, স্মৃতি, ভালোবাসা আর অলীক স্বপ্ন.
বিকেলে পাখিদের বাসায় ফিরে যাওয়া.
অগুনতি……….
আর মাথার উপরে অসংখ্য ফড়িং, এতো এর আগে ফড়িং একসাথে দেখিনি কোনোদিন. বাপ্পরে বাপ্.
শুধু ফড়িং এই নয়. কাঁকড়াবিছেওওওও. একটু সাবধানে চলাফেরা করা উচিৎ. কোথাও কোনো পাথরে বসার আগে আশপাশটা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে নেওয়া দরকার. নাহলে…. 

পড়ন্ত বিকেলের সোনারঙ.
সন্ধ্যায় ক্যাম্পে ফিরে চা আর পকোড়া মুড়ি. তারপরে স্থানীয় লোকশিল্পীদের গলায় বাউলসন্ধ্যা. বাউল এর গানে আর ছন্দে মন মাতাল হয়ে যায়.
লেকের আকাশে একটা ডবকা চাঁদ, হাতে মদীরা সাথে বাউল সংগীত. উফফ…. উফফ…

For more details contact Izifiso  (7980514477 / 9836505038 )
Family Tent charges 1300/- per head including stay, food, campfire, mineral water.
Nearest Railway Station : Bankura or Purulia
Distance from Bakura/Purulia : 75 Km
For booking visit Doladanga Backpackers’ Camp – Lake Camping